ফেরারির প্রথম বিদ্যুচ্চালিত (ইভি) গাড়ি ‘লুচে’ নিলামে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ডলারে। গাড়িটি সম্প্রতি নিলামে তোলে আরএম সদবি’স। যুক্তরাষ্ট্রের মন্টেরি নিলামে লুচে বিক্রির আগে ধারণা করা হয়, গাড়িটির দাম ১১ লাখ ডলারের বেশি উঠতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অনুমানকে অনেক পেছনে ফেলে ৪০ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ডলারে বিক্রি হয় বিলাসী যানটি।
নিলামে লুচের দাম ম্যাকলারেন এফ১ জিটিআরকেও ছাড়িয়ে যায়। গাড়িটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের চেয়ে লুচের দাম ছিল ৫৪ লাখ ডলার বেশি। ফেরারির প্রথম ইভি হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্বই এত বেশি দাম পাওয়ার অন্যতম কারণ বলে ধারণা অনেকের।
গাড়িটি ফেরারির ‘চ্যাসিস নম্বর ০’ (আনুষ্ঠানিক উৎপাদনের আগে প্রথম গাড়ি)। এর বাইরের রং মাদারপার্লা সেমি-গ্লস। একই রঙে সাজানো হয়েছে চাকা ও ব্রেক ক্যালিপার। ভেতরের অংশে ব্যবহার হয়েছে ল্য মঁস মেটালিক লেদার। এর সঙ্গে রয়েছে পার্লা রঙের আসন ও গ্রিজিও করভারা রঙের সূক্ষ্ম নকশা। গাড়ির ভেতরে থাকা একটি বিশেষ ফলকও এর পরিচয় নিশ্চিত করে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, এটি ফেরারির প্রথম বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি।
লুচে শুধু প্রদর্শনের জন্য তৈরি কোনো গাড়ি নয়। এটি পাঁচ আসনের একটি ইভি। এতে চারটি বৈদ্যুতিক মোটর রয়েছে। প্রতিটি অক্ষে দুটি করে মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। সামনের দুটি মোটরের প্রতিটির সক্ষমতা ১৪১ হর্সপাওয়ার। পেছনের দুটি মোটরের প্রতিটির সক্ষমতা ৪৭৬ হর্সপাওয়ার। চারটি মোটর মিলে গাড়িটির মোট সক্ষমতা দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০ হর্সপাওয়ারে। গাড়িটি ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬২ মাইল (প্রায় ১০০ কিলোমিটার) গতিতে উঠতে পারে।
তবে নিলামে গাড়িটির এত বেশি দাম পাওয়ার পেছনে শুধু এর সক্ষমতা বা নকশা নয়, ঐতিহাসিক পরিচয়ও বড় বিষয়। লুচে হলো ‘প্র্যান্সিং হর্স’ বা দুপায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়ার প্রতীক বহনকারী প্রথম ইভি। ফলে ফেরারির ইতিহাসে গাড়িটির অবস্থান আলাদা।
নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ অবশ্য ফেরারি নিজের কাছে রাখবে না। গাড়ি বিক্রির পুরো অর্থ দেয়া হবে ফেরারি ফাউন্ডেশনকে। ভবিষ্যতে শিক্ষামূলক বিভিন্ন উদ্যোগে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।
ফেরারি ২০২২ সালে প্রথম ঘোষণা দেয়, ২০২৫ সালে প্রথম পূর্ণ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি উন্মোচন করা হবে। তখন গাড়িটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এটি হবে কোম্পানির ইতিহাসের প্রথম পূর্ণ বিদ্যুচ্চালিত মডেল। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার গাড়িটির নাম প্রকাশ করা হয়। একই সময়ে গাড়িটির অভ্যন্তরীণ নকশাও দেখানো হয়।
খবর দ্য সুপার কার ব্লগ